পরমা প্রকৃতি – কুণাল রায়

পরমা প্রকৃতি – কুণাল রায়

সৃষ্টি এক গভীর অন্ধকারে আবৃত। অনন্ত মহা- সমুদ্রের ওপর ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর সেই আদিশক্তি মহামায়ার ধ্যানে নিজেদেরকে সমর্পণ করেছেন। অন্যদিকে বিশ্বজননী মহামায়া এই ত্রি মূর্তির পরীক্ষার প্রয়োজনে নিজেকে এক গলিত শবদেহে রূপান্তরিত করলেন। সেই গলিত শবদেহ ওই অনন্ত সাগরের ওপর ভাসতে ভাসতে, প্রথমে সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার কাছে উপস্থিত হল। দুর্গন্ধে ব্রহ্মার ধ্যান ভঙ্গ হল। ব্রহ্মা মুখ ফিরিয়ে নিলেন। কিন্তু সেই শবদেহ ব্রহ্মাকে কেন্দ্র করে ওই মহাসমুদ্র বক্ষে ঘুরতে লাগল। বিধাতা তাঁর চতুষ্মুখ ফিরিয়ে নিলেন। নিখিল ব্রহ্মাণ্ডে এক অট্টহাসি! এইবার পালনকর্তা বিষ্ণুর সামনে সেই প্রকাণ্ড শবদেহ উপস্থিত হলে, বিষ্ণুর হৃদয়ে এক ভীতি সঞ্চারিত হল। বৈকুন্ঠপতি পলায়ন করলেন। আবারও সেই অট্টহাসি আকাশ বাতাস বিদীর্ণ করল। অবশেষে সেই গলিত শবদেহ মহেশ্বরের সামনে আসতেই, তিনি তা সেই তীব্র জলরাশির বক্ষ থেকে তাঁকে তুলে আপন বক্ষে স্থান দিলেন। পরমা প্রকৃতি স্বমহিমায় আবির্ভূতা হলেন। সহস্র সূর্যসম এক তেজরাশি বিচ্যুত হতে লাগল। মহেশ্বর শান্ত, স্নিগ্ধ। এরপর মহামায়া তাঁকে বর  প্রার্থনা করায় তিনি বলেন,” হে আদিশক্তি পরমা প্রকৃতি, আমি কোন প্রকার কামনা নিয়ে তোমার তপস্যায় লীন হয়নি। আমার কোন বাসনাই নেই”। এই শ্রবণ করে দেবী বললেন, “তুমি আমার গলিত শবদেহ আপন বক্ষে সযত্নে স্থান দিয়েছ। তাই যুগে যুগে আমি তোমারই শক্তি স্বরূপিনী রূপে আবির্ভূতা হয়ে, তোমাকেই পতি রূপে বরণ করে এই সৃষ্টি সঞ্চালনায় তোমাকে সহায়তা করব”। দেবী মহামায়া অন্তর্হিতা হলেন।

 
তাই সেই পরমা প্রকৃতি এক অংশ দান করলেন ব্রহ্মাকে। নাম সারদা। কমলা রূপে বিষ্ণুর গৃহিণী এবং পার্বতী রূপে শিবের অর্ধাঙ্গিনী হয়ে চিরতরে কৈলাশে রয়ে গেলেন।

 মহামায়ার এই তিন অনন্ত বহিঃপ্রকাশ সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়ের প্রথম এবং শেষ কারণ। যোগমায়ার অনন্ত বিভূতি বারেবারে এই মানব জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছে। ভক্তের ভক্তিরসে দেবী আজ তৃপ্ত। ধরাধামে তাঁর এক অনবদ্য উপস্থিতি রক্ষা করে  চলেছে আমাদের, প্রতিক্ষণে!!
Photo by Kunal Roy

Leave a Reply