উৎসব শেষে – রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়

উৎসব শেষে – রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়

আসন্ন সন্ধ্যার আবীর মেখে ক্রমে আমি কৃষ্ণ চূড়ার মত সোহাগী হই৷ অজান্তেই শরীর থেকে খসে পড়ে ভীন দেশী তারারা৷ আঁকশি থেকে ক্রমে আলগা হয় কাছি৷ ভাসতে ভাসতে ডুবছে পায়ের পাতা, নাভিপদ্ম জুড়ে রহস্যের বেলাভূমি৷ তুমি কখনও দামাল বাতাসের মত, কখনও আবার সৌম্য পুরোহিতের মত ছুঁয়ে যাও আমার পাহাড়ী নকশা, প্রজাপতি আয়না৷ বাসা বাঁধো আমার শরীরে৷ আমি অঘোর নাব্যতায় বিমোহিত রাতের মত ডুবে থাকি দহনের আদরে৷ উৎসব শেষে কাছিটায় তখনও চন্দনের গন্ধ লেগে থাকে৷

কুলটা

আমার আর ফিরে আসা হবে না ডুবতোয়া ঘাটের ভুবন বৈরাগীর কাছে ৷ কিশোরীর পদ্মনাভে যে ভ্রমর ঢেউ তুলে ছিল তাকে চেনে শুধু অন্তরস্বামী ৷ বিলাবল রাগে রফিক চাচার সানাই মোহনমিতালি ছড়িয়ে দিত ধূপছায়া পোয়াতি ধানের ক্ষেতে ৷ কলসীর জলও যেন সেই মোহে ছলাৎ ছলাৎ শব্দে আহামরি কোমর দুলাত ৷ জানলার বাইরে দিয়ে দেখতাম, প্রসূতি নারীর মত মেঘেরা প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করছে ৷ তুমি আসবে বলে শঙ্খ ধ্বনি, হুলু ধ্বনি বেজে চলত মন্দ্র মন্দ্র ৷ পাকুড় গাছে অলস ভারে বসে থাকত যে তিতির সেও যেন প্রেমিকের খোঁজে আবির রাঙা হয়ে উঠত মুহুর্তে ৷ পীতাম্বর গাভিনটা মৌ-চটকা আমেজে দূর্গা মন্ডপের খড় বিচালির গাদায় নিজেকে আরও একবার গুটিয়ে নিত ৷ যেন যে আসেনি এখনও, তাকে আরও নিবিড় করে বাঁধা ৷

গন্ডগ্রামে বসে তোমার এই প্রেমিকা তোমার অপেক্ষায়, হয়ত পাথর হয়েই যেত ! কিন্তু না ! জানিনা কেন তুমি বারবার বড় দয়াপরবেশ হয়ে উঠতে ৷ আমার ঠোঁটে এঁকে দিতে মধুবনী ৷ অনন্ত বিভঙ্গে পাড় হতে চিকুব গ্রীবা কাঞ্চনজঙ্ঘা পাহাড়ী ঝর্না ৷ আমি তিরতির করে তোমার আলিঙ্গনে কেঁপে উঠতাম, ” শ্রাবণ ” ৷ মিলনসম্ভবা হয়ে ক্রমে আমার শরীরটা নদী হয়ে যেত ৷ সে কথা কেউ জানে না ৷ জানার কথাও তো নয় ! শুধু সাক্ষী থাকত জলপিপিরা, ভাসতে ভাসতে ছুঁড়ে দিত কৌতুক ৷ আর সাক্ষী ছিল এই খাতা ৷ ওর সাথে আমার বকুলের সখ্যতা ৷

ঠিকানা বদলেছে, ঠিকানা বদলে যায় ৷ আজ আমি অন্য নারী ৷ অন্য পরিচয় ৷ তবু তুমি এলে দরজা খুলে দিই ৷ আমার শরীর আবার তোমার ছোঁয়ায় মধুপর্ক হয়ে ওঠে ৷ জানি কুলটা বলবে সবাই ৷ তবু শ্রাবণ, আমি নষ্টই হতে চাই ৷

 
যতবার তুমি ছুঁয়েছ, আমি আরও আরও ঐশ্বর্যবতী হয়েছি ৷

Leave a Reply