একটি সম্মানজনক খুন – রনি রেজা

একটি সম্মানজনক খুন – রনি রেজা

ছোট ভাইয়া যখন ঘরে প্রবেশ করে তখন আমার দু’চোখে রাজ্যের ঘুম। সকালে কোচিংয়ে যাওয়ার সময় যে ঘুমটা জাপটে ধরে তার থেকেও ঘণ, গাঢ় ঘুম এখন আমার চোখে। শরীর ছেড়ে দিয়েছে পুরোপুরি। ছোট ভাইয়ার মুখটাও দেখছি আবছায়া। যেন ঘসা অস্বচ্ছ কাঁচের ভেতর দিয়ে দিখছি। তবু আড়মোড়া ভেঙে উঠতে ইচ্ছে করে আমার। উঠে ছোট ভাইয়াকে সব বলে দিতে ইচ্ছে হয়। যে কোনো বিপদে তো তার কাছেই আশ্রয় নিই। ছোট ভাইয়া আর আমার বয়স কাছাকাছি হওয়ায় বন্ধুত্বটাও জম্পেশ । আমার যত গল্প আছে সবই ছোট ভাইয়াকে আগে বলে দেই। শুধু কি আমার? আমার বন্ধু, বান্ধবীদের মধ্যে কে কার সঙ্গে প্রেম করে, কখন ডেটে যায় সবই বলে দেই। প্রথম পাওয়া প্রেমপত্রটাও ছোট ভাইয়ার হাতে ধরিয়ে দিয়েছিলাম। ছেলেটা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল বলেই ভাইয়াকে বলেছলাম। আচ্ছামতো শায়েস্তা করে দিয়েছিল ভাইয়া। ভাইয়াও আমাকে তার মনের কথা, পেটের কথা; সব বলে। তার বন্ধুদের সঙ্গে বনভোজন করলেও আমার জন্য খাবার নিয়ে আসে। গঙ্গা সাধুর বাড়ির মেলা থেকে কাঁচের চুরি, লাল ফিতা, লিপিস্টিক, কুত্তা বাঁশি, পাপড়, জিলিপি; আনবেই আনবে। মা আমাকে কোনো কাজে বললে ছোট ভাইয়া করে দেয়। মাকে নিষেধ করে যেন আমাকে কাজে না বলে। আমার প্রতি ভাইয়ার আহ্লাদ দেখে মা-ও মাঝে মধ্যে বিরক্ত হয়ে ওঠে। বলে, ‘মানুষের ঘরে দেখি পিঠেপিঠি ভাইবোন থাকলে মারামারি লেগেই থাকে, আর এদের উল্টো। ঢং দেখে বাঁচি না! ভাইয়ের জন্য বোনকে কোনো কাজেই বলা যায় না। মেয়ে থাকলে নাকি মায়ের আছান হয়, আমার হয়েছে জ্বালা। বিয়ে দিলে কে কাজ করে দিয়ে আসে দেখব।’

মায়ের ওই কথাগুলোর জবাবও ছোট ভাইয়াই দেয়। বলে, ‘আমার বোনকে বিয়ে দিয়ে ঘরজামাই রেখে দেব। কোথাও যেতে দেব না। আর গেলেও কাজ করতে দেব না। প্রয়োজনে কাজের মেয়ে দিয়ে দেব সঙ্গে করে।’ আমাকে নিয়ে মা-ছেলের মধুর ঝগড়া আমি উপভোগ করি। মায়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমি বলি, ‘এমন আদর পেলে আমি অলস না হয়ে পারি? ছয় ভাইয়ের একমাত্র বোন আমি। আচ্ছা মা, তোমরা আরেকটা ছেলে নিতে পারলে না? তাহলেই আমরা সাত ভাই চম্পা হয়ে যেতাম। এখনো সময় আছে নিতে পারো আরেকটা ছেলে।’ বলেই মুখ টিপে হাসি আমি। মা চেঁচিয়ে বলে ওঠেÑ ‘দেখ মেয়ে বলে কী! লজ্জা শরমের মাথা খেয়েছে। বিয়ে দিতে হবে তারাতারি।’ শুধু ছোট ভাইয়া নয়, পরিবারের সবাই আমাকে একটু বেশিই আদর করে। বাবার একার রোজগারের টানাটানির সংসার; তবু এতটুকু সুখের অভাব নেই যেন। আর আমার বেলায় তো প্রশ্নই ওঠে না। সবাই যেন নিজে না খেয়ে আমাকে খাওয়াতে পারলে তৃপ্তি পায়। একটি মেয়ের আশায় আশায় বাবা-মা ছয়টি ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছে। শেষে আমার আগমন। শুনেছিÑ ‘আমার জন্মের পর বাবা গ্রামসুদ্ধ দাওয়াত করে খাইয়েছিলেন। জন্মের আগে একটি মেয়ের আশায় পীরের দরবারে খাসি, মসজিদে সিন্নি আর মাদরাসায় কোরআন খতম মান্নত করেছিলেন বাবা। মা টানা ১২০ দিন রোজা রেখেছিলেন একটি মেয়ে সন্তানের আশায়। আমার জন্মের পর বড় কাকা দেখেই বলেছিলেন দেখতে নাকি তার মায়ের মতো হয়েছি। সেই থেকে বড় কাকা আজ অব্দি কখনো আমার নাম ধরে ডাকেননি। মা বলেই ডাকেন। অবশ্য বাড়ির কেউ-ই আমার সঠিক নামে ডাকে না। একেকজন একেকটা নাম দিয়ে রেখেছে। ছোট কাকা ডাকেন বুড়ি বলে। আব্বা বলেনÑ রাজকন্যা। বড় ভাইয়া ডাকেন পরী নামে। আমিই মাঝে-মধ্যে তাল হারিয়ে ফেলি। ভুলে যাই আমার আসল নাম কী? আর মায়ের ভাষ্যমতে, আহ্লাদ পেয়ে পেয়ে আমি মাথায় উঠেছি। আমিও বুঝতাম। ব্যাপারটা উপভোগও করতাম। দুরন্তপনা আর দুষ্টুমিতে কাটত একেকটা দিন। মাতিয়ে রাখতাম পুরো পাড়া।
প্রতিটি দিন ডিঙিয়ে আমার স্বপ্নগুলোও বড় হচ্ছিল লাফিয়ে লাফিয়ে। ডাক্তার নাকি ইঞ্জিনিয়ার হবো সেই বাৎচিতও চলত ভাইয়াদের মধ্যে। কেমন পাত্রের সঙ্গে বিয়ে দিবে আমাকে এ নিয়েও কম বচসা হয়নি। কিন্তু সবকিছু যে এত দ্রুত ফুরিয়ে আসবে চিন্তা করিনি কখনো। সামনে এসএসসি পরীক্ষা। কত পড়াশোনা। কত টেনশন। ভালো রেজাল্ট করতে না পারলে এতগুলো মানুষের আশার গুড়ে বালি পড়বে। আমার ভবিষ্যৎই বা কোথায় গিয়ে ঠেকবে। স্বপ্নগুলো বাস্তাবায়ন সম্ভব হবে না কোনোভাবেই। শিক্ষকদের মতে, জীবন গড়ার টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমিও সেভাবেই গুরুত্বসহ পড়াশোনাটা শুরু করলাম। ঘুমকাতুরে এই আমি প্রতিদিন ভোরে উঠে পড়তে বসে যাই। স্কুল, কোচিং বন্ধ দিই না একদিনও। সন্ধ্যা নামার আগেই হাজির হই পড়ার টেবিলে। একদিন সকালে পড়ার টেবিলে বসেই শুনতে পেলাম বড় ভাইয়া বাবার কাছে আমার বিয়ের বিষয়টা তুলল। প্রথমে নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারিনি। বড় ভাইয়া তো এমনটি চাইতেই পারে না। এই বড় ভাইয়ারও তো কম স্বপ্ন না আমাকে ঘিরে। আরেকটু সতর্ক হয়ে শুনলাম ঠিকই। বড় ভাইয়ার এক বন্ধু, সরকারি চাকরি করে। দেখতেও নাকি রাজপুত্তুর। তার সঙ্গেই বিয়ের কথা মোটামুটি ফাইনাল করে এসেছে। তখন আমি তাকিয়ে থাকি বাবার মুখের দিকে। বাবা নিশ্চয় এটা মেনে নিবেন না।

 
কিন্তু বাবাও বললেন কথাবার্তা আগাতে। কেমন একটা ঝড় শুরু হলো আমার ভেতর। যেন মুহূর্তে পাল্টে দিয়ে গেল আমাকে। কী করা উচিত কিছুই বুঝে উঠছিলাম না। তখনো এ বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু বলেনি। প্রথমে ছোট ভাইয়া আমার পরিবর্তনটা লক্ষ্য করেছে। শরীর খারাপ করেছে কিনা, বা কোনো সমস্যা কিনা জানতে চাইলে আমি কৌশলে এড়িয়ে যাই। পরেরদিন সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় যখন মা নিষেধ করলেন আমি বিনা বাক্যব্যয়ে উঠোন থেকে ঘরে ফিরে গেলাম। মা কিছু বুঝেছিল কিনা জানি না, ঘরে এসে কাছে ডেকে নিল। সরাসরি প্রসঙ্গটা তুলল। বলল ‘মেয়ে মানুষ হয়ে জন্ম নিয়েছ, পরের সংসার করতেই হবে; দু’দিন আগে হোক আর পরে হোক। ছেলেটা ভালো চাকরি করে। দেখতে শুনতেও মাশআল্লাহ। তাছাড়া বিয়ের পরও তুই চাইলে পড়ালেখা করতে পারবি।’ জবাবে আমি মায়ের বুকে মাথা গুঁজে কেঁদেছিলাম মাত্র। মা ফের বললেন- ‘দেখলেই তো বিয়ে হয়ে যায় না। আগে দেখ। তোর পছন্দ না হলে আমরা এ বিয়েতে মত দেব না।’ মায়ের ওই কথায় কিছুটা আশার আলো দেখলাম। কিন্তু অস্বাভাবিকতা কাটছিল না। চুপচাপ হয়ে গেলাম একদম। যথা সময়ে পাত্রপক্ষ এলো। নিয়ম রক্ষায় তাদের সামনে যেতে হলো। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলো। সব কিছু যেন একটা ঘোরের মধ্য দিয়ে হচ্ছিল। তবে আমার ভেতরকার অস্বস্তিটা টের পাচ্ছিলাম। ধরে নিয়েছিলাম হয়তো তারাই অপছন্দ করবে। কিন্তু না। জানা গেল পাত্রের মায়ের নাকি খুব পছন্দ হয়েছে আমাকে। আমার মতোই চুপচাপ, ভদ্র একটা মেয়ে খুঁজছে তারা। এই বিষাদ মনেও আমি হাসলাম। কত্ত বোকা মানুষগুলো। শোকগ্রস্ত একটা মেয়েকে দেখেই বুঝে নিল ভদ্র? এমন একটা দুরবস্থার ভেতর চুপচাপ হওয়াটাই তো স্বাভাবিক। আমার দুরন্তপনা তো তারা দেখেনি। দেখেনি আমার উচ্ছ্বলতা। শোকার্ত একটি মানুষকে দেখেই ভদ্র সার্টিফিকেট দিয়ে দিল!

 
খুব দ্রুত আগাচ্ছিল সবকিছু। আমার মত গ্রহণের কোনো দরকারই যেন নেই। যেই আমাকে ঈদের একটা জামা কিনে দেয়র সময়ও হাজারবার জিজ্ঞেস করা হয়, যা চাইলেই যে কোনো সময় ফেলে দিয়ে পছন্দের নতুন গ্রহণ করা একদম সহজ। শুধু আমার বিষয়ে নয়, পরিবারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেও আমার মতামতকে যথেষ্ঠ গুরুত্ব দেয়া হতো। অথচ জীবনের এত গুরুত্বপূর্ণ একটা সিদ্ধান্তে মত নেয়ার প্রয়োজনই মনে করছে না কেউ! প্রতিদিনই একটু একটু করে পর্দা খসে পড়তে থাকলো আমার চোখের সামনে থেকে। আমি স্পষ্ট বুঝতে পারলাম, এতদিন আমার প্রতি সবার যে আদিখ্যেতা। হ্যাঁ আদিখ্যেতাই বলছি। ওটা মোটেও ভালোবাসা ছিল না। যা কিছু ছিল সবই নিজেদের তৃপ্তির জন্য। নিজেদের স্বার্থে। আমার জন্য একটু না। তখন আমার কাছে একমাত্র বাস্তবতা হচ্ছে- পৃথিবীতে ভালোবাসা বলতে কিছু অবশিষ্ট নেই। যা আছে তার অল্প কিছু অভ্যাস আর বাকিটা হিসেব-নিকেশ। নিজের হিসেব নিজেকেই বুঝে নিতে হবে। তাই করলাম। ভাইয়াদের মুখের ওপরই না করে দিলাম এই বিয়েকে। আমার সিদ্ধান্তের বাইরে কোনোভাবেই কেউ নিতে পারবে না বলেও জানিয়ে দিলাম। মুহূর্তেই আমার মুক্ত আকাশটা মেঘে ঘিরে ধরলো।
নিজের স্বাধীন বেড়ে ওঠা বাড়িটা পরিণত হলো গারদখানায়। কেউ ছিল না আমার কথা শোনার মতো। বোঝার মতো। সবাই শত্রুতে পরিণত হলো। সবাই মিলে শুরু করলো জেরা করা। জিজ্ঞেস করা হলো আমার কোনো পছন্দ আছে কিনা। আমি জানিয়ে দিলাম আপাতত আমার স্বপ্নগুলোর প্রতিই একমাত্র প্রেম। আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই। বিয়ে এখনই নয়। কেউ কথাটা বিশ্বাস করল বলে মনে হলো না। সবার ধারণা আমার কোনো ছেলের সঙ্গে গোপন প্রেম রয়েছে। তার জন্যই এমন ভালো পাত্র হাতছাড়া করছি। তখন অবাক হওয়ার শক্তিও হারিয়েছি। ওটাই ছিল স্বাভাবিক আমার কাছে। কাউকে আর বোঝানোর চেষ্টাই করিনি যে, আমার কোনো পছন্দের পাত্র নেই। এ বিষয়ক আলোচনায় তাই চুপ থাকাটাই শ্রেয় মনে করতাম। এতে সবার সন্দেহটা আরো ঘণীভূত হতো; বুঝতাম। এতেও এক ধরণের নগ্ন আনন্দ খুঁজতাম।

 
লোডশেডিংয়ে যেমন হঠাৎ অন্ধকার দিয়ে ক্ষণিক ভুগিয়ে ফের হঠাৎই আলোকিত করে দেয়; আমার ক্ষেত্রেও যেন তাই ঘটলো। এক সকালে তোড়জোর করে ডেকে তোলা হলো আমাকে। সেই আগের মতো হাসিমুখে কথা বলছে সবাই। আমার পছন্দকে গুরুত্ব দিচ্ছে। আমি বড় ভাইয়ার যে শার্টটা খুব পছন্দ করতাম সেটাই পরেছে। আমার টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে বাবাকে যে লুঙ্গিটা কিনে দিয়েছিলাম সেটাই পড়েছে। রান্নাও হয়েছে আমার পছন্দের সব খাবার। বেশি পরিমাণ আদা বাটার ঝাল দিয়ে হাঁসের মাংস কষিয়ে রান্না, চালের রুটি থেকে শুরু করে সাধারণ পটলের চুকলা ভর্তা পর্যন্ত কিছুই বাদ রাখেনি। একবার মনে হলো আজ কি তবে আমার বিয়ে হয়ে যাবে? পরক্ষণের সবার হাসিমাখা মুখ দেখে সে ভ্রান্তি কেটে গেল। আমি কারণ জিজ্ঞেস করলে মা ব্যস্ততা দেখিয়ে গোসলে চলে গেল পুকুরে। সেজ ভাইয়া বলল, ভালো খেতে উপলক্ষ্য লাগে নাকি? খাওয়া-দাওয়া শেষে আমাকে পছন্দের ড্রেস পরে রেডি হতে বলল। ফ্যামিলি ট্যুরে যাবো সব ক’ভাই-বোন। আমিও লাফাতে লাফাতে রেডি হলাম। মনে মনে নিজেকে ধিক্কার জানালাম। এত ভালোবাসে আমাকে সবাই। অথচ এ ক’দিন কী সব না ভেবেছি তাদের নিয়ে। রেডি হয়ে সবার থেকে বিদায় নিয়ে রওয়ানা হলাম ভাইয়াদের সঙ্গে। আমার পোষা বিড়ালছানাটার থেকেও বিদায় নিতে ভুললাম না। কেন যেন মায়া হচ্ছিল আমার জানালার সামনে থাকা গন্ধরাজ ফুলগাছটার প্রতিও। এতটুকু সন্দেহ মনে উঁকি দেয়নি। কিন্তু ভ্রমণপিপাসু আমারও যেন পা চলছিল না। ভাবলাম এ ক’দিনের দুশ্চিন্তা আর অনিয়মে শরীর দুর্বল হয়ে পড়েছে হয়তো। কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে আমিই আগে গিয়ে গাড়িতে উঠলাম।

 
সন্ধ্যা নাগাদ আমরা পৌঁছে গেলাম কুয়াকাটা। হোটেল আগে থেকেই বুকিং দেয়া ছিল। গিয়ে আগে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। এরপর সবাই মিয়ে খাওয়া-দাওয়া করে যে যার রুমে গেলাম। একটু বিশ্রাম জরুরি। এই ক’দিন ঠিকঠাক ঘুমুতেও পারিনি। আজ ফুরফুরে মেজাজে একটু ঘুমিয়ে নেব। তারপর শুরু হবে বিন্দাস ঘোরাঘুরি। এরইমধ্যে সেজ ভাইয়া দরজায় নক করল। দরজা খুলতেই একে একে ঘরে ঢুকল সবাই। ঢুকেই দরজা বন্ধ করে দিল। এরপর মেজ ভাইয়া বলল সেজকে শুরু করতে। সেজ বলল বড় ভাইয়াকে আপনি বড় আপনিই শুরু করুন। আমি এর-ওর মুখ দেখছিলাম শুধু। কিছুই বুঝে উঠতে পারিনি। এরইমধ্যে বড় ভাইয়া চাকুটা বের করে বলে আমার পেটে চালান করে দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে ফিনকি দিয়ে ছুটল রক্ত। বড় ভাইয়াকে সরিয়ে মেজ এসে চাকুটা ধরে দিল এক মোচর। সম্ভবত নাড়িভুড়ি অথবা একটু আগে খেয়ে আসা ভাত-মাংস বের হয়ে এলো তখন। তাকিয়ে দেখার শক্তি ততক্ষণে হারিয়েছি আমি। চোখের ওজন বেড়ে গেছে অনেক গুণ। সামনে ঝুলছে ঘষা কাঁচের প্রলেপ। এই সময়ে ছোট ভাইয়ার আগমনে কিছু আশা জাগল বটে, টিকল না। শেষ কোপটি ছোট ভাইয়া নিজ হাতেই বসালো। নাহ, ভাইয়াদের একটুও খারাপ ভাবিনি তখন। একটুও খারাপ লাগেনি। সম্মান রক্ষার্থে তারা যা করেছে হয়তো পুরুষ হলে আমিও তাই-ই করতাম। সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলাম নারী হিসেবে পৃথিবীতে পাঠানোর জন্য।

Leave a Reply